কুমিল্লায় আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। রোববারের এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, এই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে অপ্রতিম তার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। সে সময় তাকে কৌশলে কোটবাড়ির সানন্দ নামক এলাকায় নির্জন পাহাড়ি বনের ভেতরে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে আইফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারী পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তুহিনকে প্রথমে আটক করা হয়েছিল। সে শুরুতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পনা ও ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, যার সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই চলছে।
নিহত অপ্রতিমের বয়স ছিল ১৩ বছর। অন্যদিকে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়। পুলিশ সুপার জানান, এই হত্যা মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিজ্ঞ আদালতে দ্রুতই চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের সন্ধান চেয়ে আবেদন করেছিলেন। অপ্রতিম ছিলেন ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। নিখোঁজের পরদিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লালমাই সানন্দা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসিন্দা অপ্রতিমের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি—ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসামিরা। চাকরির আরও তথ্য: রামিসা হত্যার মামলায় যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটির জন্যও দ্রুত আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখবো।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই।