ইউক্রেন সফরে থাকা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের উপস্থিতিতেই দেশটিতে ব্যাপক সামরিক হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এই সফরকালে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুসহ প্রধান অবকাঠামোগুলোতে টানা চতুর্থ দিনের মতো ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রোববার সকালে পিভনিচনি সেতুতে আঘাতের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। এর আগের দিনগুলোতেও একই সেতু এবং পিভদেননি (সাদার্ন) সেতুতে দফায় দফায় হামলা হয়েছে। বিবিসি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, পিভনিচনি সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় ড্রোনটি আঘাত হেনে বিস্ফোরিত হয়, যা থেকে অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এছাড়া সেতুর একটি লেনে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন নর্দান ব্রিজ নামে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কিয়েভে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মের্ৎস। তারা উভয়েই যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় চ্যান্সেলর মের্ৎস জানিয়েছেন, ইউক্রেন বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছে এবং বার্লিন তাদের পাশে রয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতির ওপর জার্মানির নিজস্ব নিরাপত্তাও অনেকাংশে নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জার্মানি ইউক্রেনের একক বৃহত্তম দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে প্রতিহত করা না গেলে এই যুদ্ধযন্ত্র ভবিষ্যতে ইউরোপের দিকেও ধাবিত হতে পারে। ২০২৫ সালের মে মাসে মেরৎস চ্যান্সেলর হওয়ার পর জার্মানি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় একক দাতা হয়ে উঠেছে। তাই নিজেদের স্বার্থেও বার্লিন কিয়েভকে সহায়তা করছে।
রুশ সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করবে। তাদের দাবি, যেসব সেতুতে হামলা হয়েছে সেগুলো ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে রাশিয়া মোট ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ১২৫টি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। চলমান এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্নবীকরণের বার্তা নিয়ে কিয়েভ সফরে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর।