বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ায় কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় কমিউনিটি পুলিশিং

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপতৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার ও সমাজের নজরদারির অভাব এবং সামাজিক অবক্ষয়ের সুযোগে অনেক কিশোর অল্প বয়সেই সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় ৩৯টি বড় ধরণের অপরাধমূলক সহিংসতা ঘটার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এদিকে, চলতি মাসে দুটি মোটরসাইকেল শোডাউনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জমি দখল ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধে লিপ্ত। শহরের অলিগলিতে তারা প্রায়ই দামি মোটরসাইকেলের মহড়া দেয় এবং আধুনিক স্মার্টফোনের প্রদর্শনী করে ত্রাস সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সুযোগ নিয়ে আইনের ফাঁক দিয়ে তারা দ্রুত বেরিয়ে আসে। এছাড়া, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অপরাধচক্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে পৃষ্ঠপোষকরা তাদের জামিন ও কারাগারে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে সহজে পার পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল সন্ত্রাসীরা কিশোরদের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহরে অন্তত ১৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ব্যক্তি এসব গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে। জলেরশ্বরীতলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এলাকা, মহিলা ক্লাব, মুক্তির ফুলবাড়ী, সেউজগাড়ী রেল কলোনি বধ্যভূমি, সুবিল ব্রিজ, ফুলবাড়ী নদীর ঘাট, উপশহর, কলোনি, মালতীনগর স্টাফ কোয়ার্টার এবং রহমাননগরে এদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত সাড়ে পাঁচ বছরে বগুড়ায় ৫৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ৩৯টি বড় অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ২৩৯টির বেশি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, গ্যাংগুলোর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

এ ধরনের অপরাধের বেশ কিছু ঘটনার মধ্যে রয়েছে গত মে মাসে ব্যবসায়ী ফারান তানভীরের ওপর নিজ পার্কিংয়ে ছুরিকাঘাত এবং ১৭ এপ্রিল শাকপালা পার্কে শিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামের মৃত্যু। এছাড়া, ২০২৫ সালে ফুলবাড়ী ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান ও এএসআই আহম্মদ আলীকে দায়িত্বরত অবস্থায় কুপিয়ে জখম এবং ২০২০ সালে রশিদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়। এর আগে ১৭ এপ্রিল শাকপালা পার্কে সংঘর্ষের জেরে নৃশংসভাবে খুন করা হয় স্কুলশিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামকে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসআরবি-১২ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত আগস্টে শাজাহানপুরের শাবরুল এলাকা থেকে ‘জালাল গ্রুপ’-এর ১১ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আউলিয়া, রাহাত ও গ্যাং লিডার সিফাতসহ অনেককে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাপাতি, বার্মিজ চাকু, বল্লম, ইয়াবা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। চলতি বছর বগুড়া মহানগরীর নূরানী মোড় এলাকা থেকে ধারালো চাকুসহ আউলিয়া (১৯) ও রাহাত (১৯) নামে দুই গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে ২০২৪ সালে গাবতলীর পীরগাছায় একটি পিকনিকের বাসে তল্লাশি চালিয়ে বার্মিজ চাকুসহ ৯ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যে তোশকের নিচ থেকে একটি বড় ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়।

গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিউনিটি পুলিশের সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সভায় কিশোর অপরাধ দমনে স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাইয়ান আলম জানিয়েছেন, কিশোর অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধে মদদদাতা প্রভাবশালীদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক এই সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের তথ্য শিক্ষা অফিসে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা