মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জোটটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
নয়াদিল্লির এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের শেষ দিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম লঙ্ঘন করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেও মানুষ ও পরিবেশ রক্ষায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার ওপর জোর দিয়েছে জোটটি।
এর আগে গত মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিশ্বনেতারা একটি সাধারণ অবস্থানে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী। ২০০৯ সালে পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অবিশ্বাসের বিপরীতে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে জোটটি কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও সম্মেলনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।