পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে গভীর সাগরে ভাসছেন ১৮ জন জেলে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা সেখানে চরম বিপত্তির মধ্যে রয়েছেন। সাগর উত্তাল থাকায় এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকার অজুহাতে কোস্টগার্ড কিংবা নৌপুলিশ এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজ ও বিপদগ্রস্ত জেলেদের পরিবার এবং মৎস্য ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য ঘাট থেকে ১৮ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে রওনা হন ট্রলারের মাঝি হানিফ মিয়া। কিন্তু ওই দিন ভোররাতেই আকস্মিকভাবে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া মুঠোফোনে বিষয়টি তার পরিবার ও ঢাকার রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীকে জানান এবং উদ্ধারের আকুতি জানান।
ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চান। পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে বারবার বিষয়টি জানিয়ে জেলেদের উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেল ছয়টার দিকেও মাঝি হানিফ মিয়া ফোনে তাদের উদ্ধারের জন্য আকুল আবেদন জানান। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও উদ্ধার তৎপরতায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে জুনায়েত অভিযোগ করেন।
উদ্ধার অভিযান শুরু না হওয়ার বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে তাদের কাছে গভীর সাগরে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম নেই। বর্তমানে তাদের টহল দল রাঙ্গাবালী সংলগ্ন নদী এলাকায় রয়েছে এবং জেলেদের অবস্থান সেখান থেকে প্রায় ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে পৌঁছাতে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। এমন উত্তাল সাগরে উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তবে বিষয়টি ভোলা কোস্টগার্ড ও স্থানীয় চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। মালিক সমিতি খরচের অজুহাতে উদ্ধার অভিযানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. জায়েদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তারা জানেন। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত নৌযান বা উদ্ধারসামগ্রী তাদের কাছেও নেই। তবে সাগরে অবস্থানরত অন্যান্য মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত জেলেদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, সেদিন রাত ১০টার দিকেও তার বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছে। সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় তারা একই জায়গায় নোঙর করে ভাসছেন। আশেপাশের কয়েকটি ট্রলারকে সাহায্য করার জন্য তারা হাত নেড়ে ইশারা করলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো ট্রলারই তাদের কাছে ভেড়ার সাহস পায়নি। বিপদগ্রস্ত জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান মুঠোফোনে জানান, ট্রলার মালিকের মাধ্যমে তিনি জেলেদের সাগরে আটকে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। জেলেদের কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ অবস্থায় সার্বিক বিষয় বিবেচনায় উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভোলা কোস্টগার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে এখনো পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিভাবে তাদেরকে উদ্ধার করা যায় এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।