বয়স ৩৮ ছুঁইছুঁই। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে যেখানে বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিজেদের গতি কমিয়ে আনেন, সেখানে বিরাট কোহলি যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ওয়ানডেতে তিনি ফিরেছেন এক অদম্য মানসিকতা নিয়ে, যেখানে কোনো আড়ষ্টতা নেই, আছে কেবল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবল বাসনা। জমি নিয়ে বিরোধ থেকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: পুলিশ। টেস্ট ছাড়ার পর কেন আরও আগ্রাসী কোহলি।
কোহলির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তার এই পরিবর্তনের বড় প্রমাণ। শেষ ১০ ওয়ানডে ইনিংসে তিনি করেছেন ৭৬০ রান। এর মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি ফিফটির পাশাপাশি তার গড় ৯৫ এবং স্ট্রাইকরেট ১০৮.৭২। মাঠের এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন। মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার।
নিজের এই বদলে যাওয়া সম্পর্কে কোহলি নিজেই জানিয়েছেন, প্রথম পরিবর্তনটি এসেছে তার মানসিকতায়। তিনি নিজেকে মুক্তভাবে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লোকজনের প্রত্যাশা নিয়ে আর ভাবছেন না। আগে ভালো শট খেলার সামর্থ্য থাকলেও পরিস্থিতির চাপে নিজেকে আটকে রাখতেন, কিন্তু এখন থিতু হওয়ার পর প্রতিটা ম্যাচেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ রান কীভাবে দলের স্কোরবোর্ডে যোগ করা যায়, সেই চেষ্টাটাই তার মূল লক্ষ্য থাকে। কুমিল্লায় আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ২৫৪।
এই নতুন কৌশলের পেছনে রয়েছে আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের বাস্তবতা। বর্তমান যুগে প্রতিপক্ষ দলগুলো অনায়াসেই ৩৪০ থেকে ৩৫০ রান তুলে ফেলছে। কোহলি ভালো করেই বুঝতে পারছেন, ভারতকে লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে অন্তত ৩৬০ বা ৩৭০ রান তোলার মানসিকতা রাখতে হবে। আর সে কারণেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি জানান, ঝুঁকি নিতে তার কোনো আপত্তি নেই কারণ ক্রিজে টিকে থাকলে শেষ দিকে রানের গতি অনেক বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি আউট হলেও সাজঘরে থাকা সতীর্থদের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মানসিক এই স্বাধীনতার সুফল মিলছে গত দুই বছরের পরিসংখ্যানেও, যেখানে তার ব্যাটিং গড় ৬৫-এর কাছাকাছি এবং স্ট্রাইকরেট পৌনে একশ ছুঁইছুঁই। গত দুই বছরে তার ব্যাটিং গড় গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬৫-তে, আর স্ট্রাইক রেট পৌনে ১০০-র কাছাকাছি। বিশ্লেষণ / হাসিনা ইস্যু ঢাকা ও নয়াদিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন। বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় দলে কোহলির মূল ভূমিকা ছিল ক্রিজে থেকে ইনিংস সামলানো। একই দিনে দুই দেশে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে পারে ভারত।
কোহলির লক্ষ্য এখন স্পষ্ট, ২০২৭ বিশ্বকাপ জিতেই তিনি ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চান। নতুন সংস্করণের এই কোহলি এখন কেবল নিজের রান তোলার জন্য খেলছেন না, বরং ম্যাচের লাগাম সম্পূর্ণ নিজের হাতে তুলে নিতেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আইপিএল ২০২৬ আসরে কোহলির ব্যাটিংয়ে ভর করেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেঙ্গালুরু। তবে সেই টুর্নামেন্টেই ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ম্যাচে কথা কাটাকাটির পর হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এখন তার প্রতিটি ইনিংসই যেন এক নতুন গল্পের সূচনা, যার সমাপ্তি তিনি টানতে চান শিরোপা জয়ের মাধ্যমে।