দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে দুই যুবককে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সাখাওয়াত আলী (৩২) বিষয়টি নিয়ে বোচাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই আরিফ ও কনস্টেবল আলমগীর। এছাড়া তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাখাওয়াত আলী ও শাকিব ইসলাম (২৭) মতিজাপুর এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তখন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অভিযুক্তরা তাদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে প্রীতিবাজারের পাশে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় আটকে রাখে। সেখানে শাকিবের মোবাইল ফোনে জুয়ার অ্যাপ পাওয়ার অজুহাতে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রাণনাশের ও গুম করার হুমকি দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাখাওয়াত আলী ও শাকিব ইসলাম (২৭) মতিজাপুর এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতায়, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে শাকিব ইসলামকে বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য পাঠানো হয়। অন্যদিকে, সাখাওয়াতকে হাতকড়া পরিয়ে মাধবপুর এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার ও নগদের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া পুলহাটের একটি দোকান থেকে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে মোট ২৯ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করে অভিযুক্তদের সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। এসব টাকা থেকে ২৯ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এএসআই আরিফ ও কনস্টেবল আলমগীরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মৌখিক অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনার তদন্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।