বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা

শাহজালালের ইডিকে হুমকি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান এবং কর্তব্যরত নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে বিমানবন্দর থানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তারিত

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরবর্তী সময়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে তলব করেন। ঘটনার সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক অত্যন্ত শান্তভাবে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ এবং ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেইট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’। এছাড়াও তিনি কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অত্যন্ত অভদ্র আচরণ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। এই পুরো বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত না হলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটি প্রমাণ করা সম্ভব বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে আখতারুজ্জামানের উচ্চ-বাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসায় ‘উত্তেজিত’ হয়ে পড়েন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন। পরে আখতারুজ্জামান ফের উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে হুমকি দেন, “আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। তখন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান অতর্কিতে ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাকে ‘অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

অশালীন মন্তব্য ও নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি

মামলার নথিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময় আখতারুজ্জামান বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্পর্কে অত্যন্ত অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হি ইজ এ বাস্টার্ড। বিমানবন্দরের জন্য তিনি কিছুই করছেন না।’ কেবল মৌখিক হুমকিই নয়, এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সংশ্লিষ্টদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে, তাকেও মারধরের শিকার হতে হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেন নামক দুই কর্মকর্তাকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামি আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুন মাসে কটিয়াদী আসন থেকে তিনি বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আখতারুজ্জামানের ভাই আনিসুজ্জামান খোকনও রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। বিমানবন্দরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একজন সাবেক আইনপ্রণেতার এমন আক্রমণাত্মক আচরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য হুমকি প্রদানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এজাহারে বর্ণিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত অন্যান্য কর্মকর্তাদের জবানবন্দিও গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এবার আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েন তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন, যিনি বিএনপি থেকে ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ-১৯ আসনের এমপি হয়েছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা