পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। গত ৬ অক্টোবর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ১৫ রাউন্ড ভোট গণনার পর নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ ১,২২,৭৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই জয়কে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী একে “ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব” আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি নন্দীগ্রামের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যিনি শুভেন্দু অধিকারীর নিহত ব্যক্তিগত সহকারীর মা। এই জয় উদযাপনে শুভেন্দু অধিকারী তাকে অভিনন্দন জানান। গত ৬ অক্টোবর উভয় কেন্দ্রেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি বলেন, মানুষ অপশাসন ও বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে অগ্রগতিকেই বেছে নিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কেমন ফলাফল করে সেদিকে সকলের আগ্রহ ছিল। তিনি দাবি করেন যে, এই জয়ের মাধ্যমে ওই কেন্দ্রে অতীতের সব জয়ের ব্যবধানের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে অধিকারী এই ফলাফলকে “ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব” বলে অভিহিত করেছেন।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনেও বিজেপির জয় নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকায় বিজেপির জয় উল্লেখযোগ্য। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রেজিনগরে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোট বিজেপির বাক্সে পড়েছে। তিনি মনে করেন, এটি রাজ্যের মানুষের উন্নয়নমুখী ও স্বচ্ছ শাসনের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। পাশাপাশি এই জয়কে তিনি তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের রায় হিসেবে দেখছেন।
নন্দীগ্রামের লড়াইটি আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছিল, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শেষ মুহূর্তে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এদিকে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান আগে একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন, তবে জামিন পাওয়ার পর তিনি প্রচারণায় অংশ নেন। নির্বাচনের ফলাফলে নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান প্রায় ৫০ হাজার ভোট পেয়েছেন, যেখানে তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি অংশ সমর্থন দিয়েছিল। রেজিনগরে অবশ্য তৃণমূল প্রার্থী মাত্র আড়াই হাজার ভোট পেয়েছেন, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরে শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে তিনি প্রচারে যোগ দিয়েছিলেন।
এই উপনির্বাচন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছিল সংখ্যালঘুদের আস্থার বড় পরীক্ষা, কারণ উভয় কেন্দ্রেই মুসলিম ভোটারদের বড় প্রভাব রয়েছে। তবে ভোটের ফলাফলে তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও তাদের বিপর্যয় ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বিরোধী দলগুলোর তৎপরতা এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ও তার মিত্ররা শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পুদুচেরি ও আসামের ছয়টি আসনে হওয়া এই উপনির্বাচনে বিজেপি তিনটি আসনে, টিভিকে দুটি এবং অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস একটি আসনে জয় পেয়েছে। তামিলনাড়ুর মাদুরান্তকম ও ধারাপুরম কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে টিভিকে। পুদুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা আসনটি ধরে রেখেছে অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস এবং আসামের নওগাওঁ লোকসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি প্রার্থী।