বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইসিসিতে ট্রাম্পের

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ এবং আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নেয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছিল। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী মনোভাব পোষণ করে আসছে। এর আগে সংস্থাটির কৌঁসুলি ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এবারের পদক্ষেপের আওতায় আদালতকে সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলোও শাস্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো আমেরিকান নাগরিকের বিচার আইসিসি করতে পারবে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা, এর অর্থপ্রাপ্তির পথ বন্ধ করা এবং কার্যক্রমের সক্ষমতা সীমিত করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। রুবিও দাবি করেন, আইসিসি এবং তাদের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম স্ট্যাটিউট’-এর সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ দিতেই নিষেধাজ্ঞাটি এমনভাবে কার্যকর করা হয়েছে। আইসিসি অতীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কে রুবিও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইসিসি তাদের কার্যক্রম বা হুমকি বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র আদালতটিকে পুরোপুরি অকার্যকর করার পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া তিনি আইসিসির সদস্য এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে আদালতটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তবে ট্রেজারি বিভাগ টেলিযোগাযোগ, পেনশন প্রদান, সফটওয়্যার এবং বন্দি সংক্রান্ত জরুরি কিছু লেনদেনের জন্য ছয় মাসের একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে।

আইসিসি কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার ভিত্তির ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখছে। আদালতটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংস্থাটির মতে, এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার লড়াই। ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান জানিয়েছেন, এই চাপের মুখেও তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালত একা টিকে থাকতে পারে না।

নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কোম্পানিগুলোর পক্ষে আইসিসির সঙ্গে কাজ করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়বে। এতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া, বিমা সুবিধা বাতিল এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসে সদর দপ্তর অবস্থিত এই আদালতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ভূমিকা এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ইস্যুগুলো বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।

এই আদালত এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। নেতানিয়াহুর পাশাপাশি হামাস নেতাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে কাজ করছে তারা। অতীতে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াট্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। আইসিসি বিশ্বনেতা ও বৈশ্বিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ ৭০ জনেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ এনেছে।

নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়ার সময় বলেছে, আন্তর্জাতিক আদালত ও বিচারকরা বর্তমানে রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক ছিলেন। নোবেল কমিটির মতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দেওয়া শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত।

আইসিসির বর্তমান সদস্যভুক্ত দেশের তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাদে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সময়কার নিষেধাজ্ঞা জো বাইডেনের আমলে প্রত্যাহার করা হলেও ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে তা আবারও নতুন রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ না হলে আগামীতে নিষেধাজ্ঞার শর্ত আরও কঠোর হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা