টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের ব্যাটিং দর্শনে এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে যেখানে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে বর্তমান দলটি এখন একে নিয়মিত ব্যাপার হিসেবে দেখতে চায়। লঙ্কানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের পর এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের নতুন অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে স্বাগতিকেরা। অধিনায়ক হিসেবে এটি ফারহানের প্রথম সিরিজ জয়। সৌদি বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলায় নিহত ১, আহত ১১।
ম্যাচে শুরুটা ধীরস্থির হলেও শেষের ঝড়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লেতে রানের গতি আশানুরূপ না থাকলেও দলের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল ফারহানের। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ২১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা, যা ঘরের মাঠে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি স্কোর। পাওয়ারপ্লেতে প্রত্যাশামতো রান তুলতে না পারলেও দল যে শেষ পর্যন্ত ২০০ ছাড়াবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল না ফারহানের।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফারহান বলেন, ‘পাওয়ারপ্লেতে খুব বেশি রান না উঠলেও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমরা ২০০ ছাড়িয়ে যাব। ২০২৬ সালে এসে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দলে পরিণত হয়েছি। আমাদের ছক্কা মারার ক্ষমতা বেড়েছে এবং ব্যাটসম্যানরা ১৫০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে খেলছে। এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রতি ম্যাচেই ২০০ ছাড়ানো সম্ভব। প্রথম দুই ম্যাচের আগ্রাসী মানসিকতা আমরা শেষ ম্যাচেও ধরে রাখতে চাই।’ রাজধানীতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার। দেশের কোথায় বাল্যবিয়ে বেশি, কোথায় কম।
পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দলটির সর্বোচ্চ ২৩২ রানের রেকর্ডটি এসেছিল ২০২১ সালে নটিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপরই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবারের ২১৫ রান জায়গা করে নিয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য বড় সংগ্রহগুলো হলো চলতি বছর পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১২ রান, ২০২১ সালে করাচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০৮ রান এবং ২০২৫ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা ২০৭ রান।
মূলত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এমন কৌশলে এগোচ্ছে। গত আড়াই বছরে চারবার অধিনায়ক বদলের পর এখন নতুন নেতৃত্বে জয়ের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া দলটি।
তবে দলের মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বাইরের আলোচনাও চলছে। বিশেষ করে এশিয়া কাপকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের হারিস রউফ ও সাহিবজাদা ফারহানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোর্ডের আইসিসিতে অভিযোগ এবং এর আগের শেষ ৩ ওভারের ঝড়ে ভারতকে ১৭২ রানের লক্ষ্য দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জ সামলে আগ্রাসী ক্রিকেটের প্রদর্শনী অব্যাহত রাখাই এখন ফারহানদের মূল লক্ষ্য।