ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এক শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিরা হলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম, যারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয়ের কর্মপরিবেশেও টেনে আনতে হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে বিদ্যালয়ের কর্মপরিবেশেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তবে পারিবারিক বিরোধের কারণে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন এবং তাদের মধ্যে আইনি লড়াইও চলছে। ২০১১ সালে দুজনেই একই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রধান শিক্ষক জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলাদা থাকলেও তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি এবং এর আগেও বিদ্যালয়ে দু-তিনবার এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটানো মোটেই ঠিক হয়নি।
স্কুলের মতো পবিত্র জায়গায় শিক্ষকদের এমন আচরণ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, মারামারির এই ঘটনাটি আসলে ১০ থেকে ১২ দিন আগে ঘটেছিল।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি পুরোনো হলেও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই তা তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক বিবাদ তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বুধবারই সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে বুধবার সংশ্লিষ্টদের শোকজ চিঠি দেওয়া হবে।