ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নেওয়ায় গত আড়াই মাসে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে এই বিশালসংখ্যক অধিবাসী নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ। গৃহহীন হয়ে পড়া এসব মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাপন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সাধারণ মানুষের জন্য বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বাসস্থান, খাদ্য ও অর্থ সহায়তার তীব্র প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষে চলতি বছরের জুলাই মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূখণ্ডগুলো হুতি যোদ্ধারা দখলে নিলে এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার এই তথ্য ও আশঙ্কার কথা জানান। তিনি জানান, সংঘাতের কারণে নতুন করে ভিটেমাটি হারা মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই আশ্রয় হয়েছে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে। বর্তমানে সেই শহরের মূল সড়ক অবরোধ করে চারদিক ঘিরে রেখেছে হুতি যোদ্ধারা, ফলে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে সল্টমার্শ বলেন, ইয়েমেনে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।