জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, দেশে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, এই সুযোগের অভাবে সমাজের নিকৃষ্ট ও দুর্নীতিবাজরাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। ইথিওপিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের বিকৃতি ঘটেছে, যেখানে ভালো মানুষের অংশগ্রহণ কমে গেছে। তাঁর ভাষ্য, সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্পিকার বলেন, ‘ইথিওপিয়ার তুলনায় আমরা দেখেন কোথায় চলে গেছি। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসব দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য মানুষ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, ‘আয়নাঘর বলতে একটা জিনিস আছে, কেউ জানতই না।
মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন টর্চারসেলের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বহু মানুষকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। প্রশাসন ও বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নেতাকর্মীদের দেশত্যাগ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আওয়ামী লীগ নেতারা এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন তার দল পালায় না, কিন্তু বাস্তবে তারা দলবলসহ দেশ ছেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ অনেক সময় ছাড় দেন, কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেন না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এই দুঃশাসনের অবসান হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিজের সততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তিনি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে স্পিকার বলেন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করে এখন সাধারণ সদস্য হিসেবে আছেন এবং নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন। এলাকায় দখলদারিত্ব বা হয়রানির বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা মাস্তানি বরদাস্ত করা হবে না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন যেন এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানানো হয়, আর যদি নেতারা নিজে অপকর্মে জড়িত থাকেন তবে যেন সরাসরি তাকে অবহিত করা হয়। এলাকায় কেউ জমি বা ঘরবাড়ি দখল করলে কিংবা কাউকে হয়রানি করলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে স্পিকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।