যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে বিভাজন সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে বলে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। অশুভ শক্তির মোকাবিলায় সবাইকে একজোট থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সমাজকে বিভাজিত করার এই অপচেষ্টায় অসুরদের প্রভাব এখনও থেমে নেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত ওঁম শক্তি মন্দিরে প্রবাসী বাঙালি হিন্দুদের দুর্গোৎসবের সমাপনী পর্বে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি উল্লেখ করেন, দেবী দুর্গার আরাধনা মূলত অশুভের বিনাশ সাধন করে শুভ ও ন্যায়ের বার্তা প্রতিষ্ঠার প্রতীকী রূপ। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বিভেদকামী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন। তাঁর মতে, দেবী দুর্গার আরাধনা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ নয়, অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয় এবং শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠারও প্রতীক। সেই বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দুর্গোৎসবে সমবেত হন। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান সামাজিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের মতো আয়োজন ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষা, বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার এবং সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
জ্যাকসন হাইটসের ওই মন্দিরে মেয়র মামদানি পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওঁম শক্তি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা গৌরাঙ্গ কুন্ডু, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বরূপ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ পাল ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় পরিয়ে মেয়রকে বিশেষ সম্মান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে দুর্গাপূজার মহোৎসব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ নজর কেড়েছে। টাইমস স্কয়ার দুর্গোৎসব আয়োজকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কয়ারে পূজা, অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুর খেলা, ধুনুচি নাচ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে ১৭ ও ১৮ অক্টোবরও টাইমস স্কয়ার চত্বরে আরও একটি দুর্গাপূজা উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব প্রসঙ্গে দীনেশ মজুমদার জানান, বাঙালি হিন্দুদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজাকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে বিশ্বখ্যাত ফাদার ডাফি স্কয়ার ও টাইমস স্কয়ারের মতো স্থানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনের বিকল্প নেই।