ভারতের শিল্পাঙ্গনের নক্ষত্র, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী পরলোকগমন করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১৪ মাস ধরে তিনি ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৬ অক্টোবর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ভারতীয় চিত্রশিল্পের জগতে মাইলফলক তৈরি করেছিলেন যোগেন চৌধুরী। রাজনীতি ও সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ছবি আঁকতেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপূজার থিমের নকশা করেছিলেন তিনি। দেশে–বিদেশে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন শিল্পী।
১৯৩৯ সালে বাংলাদেশের ফরিদপুরের দহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যোগেন চৌধুরী। তাঁর কর্মময় জীবনের শুরু ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে। এরপর উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে ১৯৬৫ সালে তিনি প্যারিস পাড়ি জমান। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের অধ্যাপক এবং প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৫ সালে প্যারিসে যান উচ্চশিক্ষার জন্য।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথেও তাঁর আবেগীয় ও কর্মমুখর যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস ধরে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের যেসব কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে বহুমুখী অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে যোগেন চৌধুরী ছিলেন অন্যতম। এছাড়া রাজনীতির আঙিনাতেও তাঁর বিচরণ ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাসই কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের যেসব কবি, লেখক ও শিল্পী বাংলাদেশের সপক্ষে বহুমুখী কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে একজন যোগেন চৌধুরী। ভারতীয় ও ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাবও রয়েছে তাঁর আঁকায়।