শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাবনায় বজ্রপাতে ৬ কিশোর ও তরুণের মৃত্যু, আহত ৩ রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির চড়া দাম, অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সমাজবিরোধী ও ক্ষতিকর: ইসলামী আন্দোলন যাত্রাবাড়ীতে কিশোর মৃত্যু: এসআরবির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান পরিবারের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন দীপ জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোহরদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন এ্যাব মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: তদন্ত কমিটি গঠন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা নিয়ে ছড়ানো তথ্য ভিত্তিহীন বলছে জাপান সংসার চালাতে ফেরি করে চা বিক্রি করছেন মসজিদের ইমাম

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের উদ্যোগ সরকারের।

অনলাইন ডেস্ক / ১৯০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে নতুন আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এই বিশেষায়িত ইউনিট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজন সাপেক্ষে কার্যকর থাকবে।

সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে এর ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে সদস্য এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

দায়িত্ব ও অপারেশনাল ক্ষমতা

খসড়া আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবেলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির মূল দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও পালন করবে ইউনিটটি।

আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাহিনীটিকে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা। মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের জোরালো অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে।

তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকারও বিধান রয়েছে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটি ও জবাবদিহি

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।

 কমিটির সভাপতি: এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

 সদস্যবৃন্দ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। প্রাথমিক সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা ছাড়াও অবৈধ প্রভাব, হয়রানি বা পদায়ন-পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি

খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অনুরোধ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগে বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল থাকছে। তবে এর পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করার বিষয়টি নতুন আইনের কার্যকারিতাকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা