বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

Reporter Name / ৬৬ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গত সাত মাসে দেশে মানুষের জন্য অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পর রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে পুঞ্জীভূত সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি নির্মূল করা কঠিন হলেও বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোতে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অতীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে যেভাবে বিরোধী মতের মানুষদের তালিকা করে নিপীড়ন চালানো হতো, সেই সংস্কৃতির সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ে কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা ধামাচাপা না দিয়ে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের পরিবর্তে বর্তমানে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের আন্দোলন ছিল না, বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রবাসী ও শ্রমিকসহ সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। এমন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির প্রায় ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম বা আত্মাহুতি দিয়েছেন।

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একশটিরও বেশি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত আইন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আইনের অক্ষরের চেয়ে তার মানবিক প্রয়োগ এবং সঠিক প্রতিফলন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকার সমালোচনার প্রতি পরমসহিষ্ণুতা বজায় রাখছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দেশে এখন বাকস্বাধীনতা বিদ্যমান এবং কিছু ক্ষেত্রে অশালীন আচরণ দেখা গেলেও সরকার ধৈর্য প্রদর্শন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তারুণ্যের মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে, নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা