মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হঠাৎ বিদ্যুৎহীন ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশ সীতাকুণ্ডে লরির চাপায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত ঢাকা ও চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ৩৫ উড়োজাহাজ কিনতে পরামর্শক নিয়োগে মাত্র ৮ দিন সময় দিল বিমান পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে ১৫ ডিগ্রিতে, শীতের আমেজ শুরু টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিজয়: নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে দুই প্রধানমন্ত্রীর সমঝোতা সীতাকুণ্ডে বিকল বাসযাত্রীদের লরিচাপায় পাঁচজন নিহত বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক

অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই.

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী হিসেবে দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার তাত্ত্বিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তাঁদের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই।

১৯৭০-এর দশকে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, তখন পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব এবং চরম মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে। সেই সময় প্রচলিত কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন ওঠে এবং নতুন করে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। তাঁরা সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেলগুলোকে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার তাত্ত্বিক কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা বর্তমানের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। মন্দার সময় সুদের হার কমানো ও সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সুদের হার বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রচলিত নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজন দেখা দেয়।

তাদের গবেষণার মূল দিক হলো, ব্যক্তি, পরিবার এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের সঞ্চয়, ব্যয় ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার বিশ্লেষণ। তাঁদের উদ্ভাবিত মডেলগুলো সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়নে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার যখন তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয়, তখন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

হল ও উডফোর্ডের এই তাত্ত্বিক ভিত্তি আধুনিক অর্থনৈতিক নীতিমালার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানিসংকট বা পরিবারের ভোগব্যয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের মতো যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি কার্যকর।

উল্লেখ্য যে, অর্থনীতির এই পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরস্কার’। আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী প্রবর্তিত মূল পাঁচটি পুরস্কারের তালিকায় এটি ছিল না। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে ১৯৬৯ সাল থেকে এই বিভাগটি চালু হয় এবং তখন থেকেই নিয়মিতভাবে তা প্রদান করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা