লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডবল ট্র্যাকে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম স্টেশন ইয়ার্ড পর্যন্ত মোট ১৩১.২০ কিলোমিটার বর্তমান মিটারগেজ ডবল ট্র্যাককে ডুয়েলগেজ ডবল ট্র্যাকে উন্নীত করা হবে। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ১৪ হাজার ১২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) থেকে যৌথভাবে সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনে রেলপথের সুরক্ষা, সিগন্যালিং ও অন্যান্য নির্মাণকাজ বাবদ ১৩ হাজার ৭৬৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের টঙ্গী-ভৈরব বাজার-আখাউড়া ৯৭.০১ কিলোমিটার এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম ২০ কিলোমিটারসহ অবশিষ্ট অংশকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করতে পারলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হবে লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথ। এছাড়া সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিংব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিচালনগত সুবিধা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে জমি অধিগ্রহণ, প্রকৌশল ও সরঞ্জাম, পরামর্শক সেবা, ব্যবস্থাপনাসহায়তা এবং অন্যান্য খাতের ব্যয়ও ধরা হয়। সরকার ও রেলপথ মন্ত্রণালয় রেলকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
এই আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য হলো ট্রেনের গতি বৃদ্ধি করা এবং যাত্রার সময় কমিয়ে আনা। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, ব্রডগেজ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার এবং মিটারগেজ ট্রেনের গতি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে রেলপথে কনটেইনার পরিবহনের হার মাত্র ৪ শতাংশ, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজতর হবে।
প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে। এর মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে, যা ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এর আগে ঢাকা-টঙ্গী ২২.৯৪ কিলোমিটার এবং আখাউড়া-লাকসাম ৭১.২৪ কিলোমিটার অংশ মিটারগেজ থেকে ডবল লাইনে উন্নীত করা হয়েছে, যা এই ধারাবাহিকতারই অংশ। ফলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কুমিল্লা-ঢাকা রেল কর্ড-লাইনসহ এই পুরো রুটটি ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। একই বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. তোশিয়া আহমেদ জানান, রেল সেবার মান উন্নত করতে মন্ত্রণালয় থেকে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উন্নয়ন প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূইয়া বলেন, ডুয়েলগেজ প্রকল্প সম্পন্ন হলে লাকসাম-নোয়াখালী, লাকসাম-চাঁদপুর ও লাকসাম-সিলেট রেলপথের যাত্রীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বৃহত্তর লাকসাম এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় এটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।