মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরতে যাচ্ছেন কেটি জাকারিয়া। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তির বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। যদিও কেটির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তিনি কেটিকে এই পদে থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, তিনি কেটিকে প্রশ্ন করেছিলেন যে সত্যিই তার এই কাজের প্রয়োজন আছে কি না। এদিন ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতাম। পরবর্তী সময়ে সেই দায়িত্বের বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে। সেখানে বেশির ভাগ সময় লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তিনি। এ ছাড়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ পাওলো জাম্পোল্লি পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কেটি জাকারিয়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অন্য কোনো নতুন ভূমিকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং জানিয়েছেন, কেটি নতুন একটি দায়িত্বে যাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। গত ৯ অক্টোবর ফক্স নিউজের এই স্বল্পপরিচিত ভাষ্যকারকে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিয়োগের পর থেকেই তিনি নানামুখী চাপের মুখে ছিলেন। হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে অপরিচিত হলেও প্রেসিডেন্টের সহযোগী ন্যাটালি হার্পের সমর্থন ছিল তার প্রতি। সে ক্ষেত্রে কাজটি হয়তো ‘আরও স্বস্তিদায়ক’ হবে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের মেয়ে এবং তার ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজনের বিদেশে অর্থ উপার্জন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দায়িত্ব নেয়ার পর গত মঙ্গলবার কেটি জাকারিয়া তার প্রথম ও শেষ সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে তিনি খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করেন। এর পরপরই তার পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ট্রাম্প তাকে ‘অ্যাটর্নি’ বা আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কেটি অসংলগ্নভাবে ‘আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম’ বলে দুবার উত্তর দেন। যদিও তিনি পরে দাবি করেন প্রশ্নটি ভুল শুনেছিলেন, কিন্তু পাশে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সেই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।
টেলিভিশন সাক্ষাৎকারগুলোতেও তিনি কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে শন হ্যানিটির অনুষ্ঠানে এবং শুক্রবার সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে তাকে বার পরীক্ষা ও প্রেসিডেন্টকে জানানো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এসবের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও প্রকট হয়েছে। কিম্বারলি গিলফয়েলের বরখাস্ত এবং রিচার্ড গ্রেনেল ও আলিনা মিলডনের বিরোধের মতো ঘটনাগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনজুড়ে বিভিন্ন মহলের কার্যক্রমে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে এই বিদায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেটির বিদায়ের ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এক সপ্তাহের ধারাবাহিক অস্থিরতার মধ্যেই ঘটল। গত মঙ্গলবার গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে টেলিভিশনে বরখাস্ত করার খবর আসে।