চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য ফর্মের বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের ছন্দ খুঁজে ফিরছিল। এমতাবস্থায় আসন্ন এল ক্লাসিকোর আগে জয়ের বিকল্প ছিল না মাদ্রিদের জায়ান্টদের সামনে। ইনজুরির কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই রোববার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে রিয়াল। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার অনুপস্থিতি বুঝতে দেননি কিলিয়ান এমবাপে। তার জোড়া গোল এবং সতীর্থদের নৈপুণ্যে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার। ইকো-রিসোর্টের নামে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নেই অগ্নিনিরাপত্তা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ছুটছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে, আর জোসে মরিনহোর দল এখনও খুঁজছে নিজেদের সেরা ছন্দ। অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোলের পর পানেনকা পেনাল্টিতেও জাল খুঁজে নিলেন ফরাসি তারকা। সেভিয়ার একমাত্র গোলটি করেন মানু বুয়েনো। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য সেভিয়ার রক্ষণ ভাঙতে কিছুটা বেগ পেতে হয় রিয়ালকে। প্রথমে মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে প্রায় একাই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। মরিনহোর বিকল্প ঠিক করে রেখেছেন পেরেজ। রিয়ালের রেকর্ড স্পর্শের রাতে বার্সা কোচ বললেন, ‘ইয়ামালই বিশ্বের সেরা’। নাৎসি পার্টির অপপ্রচারের সঙ্গে তুলনা: তেবাসের পদত্যাগ চায় রিয়াল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আরদা গুলার। বেলিংহামের শুরু করা আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন এমবাপে। ৩৭ মিনিটে বেলিংহামের ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরাসি এই তারকা। এরপর গোলরক্ষককেও পাশ কাটিয়ে অনায়াসে বল জালে পাঠান তিনি।
বিরতির পর আক্রমণের ধারা বজায় রাখে রিয়াল। ৬৩ মিনিটে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন এমবাপে। স্পট কিক থেকে পানেনকা শটে গোল করে লা লিগার চলতি মৌসুমে নিজের নবম গোল পূর্ণ করেন তিনি। ৮০ মিনিটে মানু বুয়েনোর গোলে সেভিয়া ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও দুই মিনিট পরই ইয়ান দিয়োমান্দে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এর তিন মিনিট পরই ব্যবধান ৩-০ করেন এমবাপে। তবে তার নিচু শট ঠেকিয়ে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক। ডি-বক্সে আন্দ্রেস কাস্ত্রিনের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে পেনাল্টি পায় রিয়াল।
এই জয়ে নয় ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ছয় এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে তারা এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। আগামী রোববার ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। তার আগে এই জয় কোচ মরিনহোর জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে। তার আগে এমন বড় জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে মরিনহোকে। বড় জয় পেলেও ম্যাচে বিতর্কের অভাব ছিল না।
তবে রিয়ালের এই জয় নিয়ে বিতর্কও দানা বেঁধেছে।
প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে সেভিয়ার খেলোয়াড় পেকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে আরদা গুলারের বিরুদ্ধে।
মাঠের রেফারি তাকে কার্ড না দেখানোয় ম্যাচ শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। তিনি দাবি করেন, ‘১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের খেলায় রিয়াল জয়ের যোগ্য, কিন্তু আমাদের অন্য একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের ১০ জনের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল।’
ম্যাচটিতে ভিনিসিয়ুসের অনুপস্থিতিতে একাদশে বড় পরিবর্তন আনেন রিয়াল কোচ। তার জায়গায় বাঁ প্রান্তে খেলানো হয় দিয়োমান্দেকে, আর আক্রমণভাগে এনদ্রিক ও এমবাপে জুটি বেঁধেছিলেন। পুরো ম্যাচজুড়ে রিয়ালের আক্রমণভাগ সেভিয়ার রক্ষণভাগের ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করে। ৬০ মিনিটে সেভিয়ার একটি গোল হওয়ার উপক্রম হলে ফেদেরিকো ভালভার্দে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। ভিনিসিউসের জায়গায় হলে রিয়াল ছেড়ে চলে যেতেন মরিনহো।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার টানা জয়ের বিপরীতে রিয়ালের এই জয় লিগ টেবিলের লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এর আগে রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে টানা নবম জয়ের দেখা পেয়েছিল। সব মিলিয়ে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে দলের প্রধান খেলোয়াড়দের ফর্মে ফেরা এবং গোলবন্যা অব্যাহত রাখা রিয়ালকে বড় অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। এল ক্লাসিকোর আগে এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল শিবিরের।