সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিটি। এরপর আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিল আকারে এটি সংসদে তোলা হবে।
কমিটির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং জাতীয় গণফ্রন্ট টেলিফোনে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করেছে। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। এছাড়া মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আলোচনার কক্ষ ত্যাগ করে এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে।
বাজেট ও অর্থবছর পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতিশীলতা ও অপচয় রোধে অর্থবছর ১লা এপ্রিল থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য সংবিধানে সংশোধনী প্রয়োজন। এছাড়া ১০০ সদস্য বিশিষ্ট দ্বিকক্ষ সংসদের (উচ্চকক্ষ) বিষয়ে অনেক দল নীতিগত ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। এটি সরাসরি নির্বাচনের পরিবর্তে সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত হবে, তবে এই কক্ষের সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকবে না।
কিছু রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, যেসব ইস্যুতে মতভেদ ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছিল এবং জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংস্কারে অনিচ্ছুক—এমন প্রচারণাকে ‘অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
সংবিধান সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংস্কার পরিষদের মাধ্যম ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদলানো যাবে না—এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী যেকোনো রাজনৈতিক দল জনস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে। বিরোধী দলগুলো এখন অংশ না নিলেও বিল উত্থাপনের সময় তারা সংসদে উপস্থিত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনশীল গ্রন্থ নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমাজের চাহিদা অনুসারে তা পরিবর্তিত হয়।