দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির সংমিশ্রণে পাওয়া টানা পাঁচ দিনের লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ এই ছুটির সুযোগে বাড়ি ফিরতে উদগ্রীব যাত্রীরা টার্মিনালে ভিড় করছেন, তবে এই চাপের বিপরীতে পরিবহন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস খোলা ছিল।
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মোড় থেকে শরীয়তপুর রুটের ফেম পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সোহেল আহমেদের ভাষ্যমতে, ছুটি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে শরীয়তপুরের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা করে। মিজান হোসেন নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, আগে এই গন্তব্যের ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ২৮০ টাকা করা হয়েছিল। অথচ এখন অতিরিক্ত যাত্রী চাপের অজুহাতে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, বাসের পাশাপাশি যাত্রীর সংখ্যাও বেশি। তিনি একটি ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
একই চিত্র দেখা গেছে বরিশাল ও কুমিল্লার মতো জনপ্রিয় রুটগুলোতেও। বরিশালে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী আব্দুর রহমান জানান, স্থানীয় বাসগুলো এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে কোনো ভাড়া নিচ্ছে না, অথচ স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ভাড়া ৫০০ টাকা থাকে। অন্যদিকে, কুমিল্লা রুটের যাত্রীরাও একই অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, যেখানে আগে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া ছিল, সেখানে এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। যদিও তিশা পরিবহনের কর্মী শাহাদাত হোসেনের দাবি, তারা সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন না, বরং অন্য সময়ে ভাড়া কিছুটা কম রাখা হয়। বরিশালে যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন লিয়াকত।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ছুটির তালিকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গত ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে।
মাঝখানের ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কর্মদিবস থাকলেও সেদিনও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২২ অক্টোবর কর্মদিবস থাকলেও ওই দিন ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।
এর সাথে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত এই দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেল থেকেই ঢাকা থেকে বহির্গমনমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।