আধুনিক কাতারের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থপতি ও দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। আজ রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) ৭৪ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে। কাতারের আমিরি দিওয়ান এক শোকবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এক দূরদর্শী শাসকের প্রস্থান
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১৮ বছর কাতার শাসন করা শেখ হামাদকে আধুনিক কাতারের রূপকার বলা হয়। তাঁর শাসনামলে কাতার কেবল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধই হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।
আধুনিক কাতারের পথচলা
শেখ হামাদের শাসনামল ছিল কাতারের জন্য এক ‘সোনালী অধ্যায়’। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ ও অর্জন নিচে তুলে ধরা হলো:
বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর: ১৯৯৬ সালে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’, যা বিশ্বজুড়ে কাতারের প্রভাব ও ভাবমূর্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
গণতান্ত্রিক সংস্কার: ২০০৪ সালে তিনি কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বা মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নারী ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
বিশ্বের দুয়ারে কাতার: তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনার ফসল হিসেবেই পরবর্তী সময়ে কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করে, যা পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছিল।
বিরল রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত: ২০১৩ সালে নিজের পুত্র এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন খলিফা আল থানির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিরল ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি করেন।
আমিরি দিওয়ানের শোকবার্তা
কাতারের আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মহান নেতার বিয়োগব্যথা মেনে নিচ্ছি। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করেন।”
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কেবল একজন শাসক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এমন এক স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি একটি ছোট মরুভূমি বেষ্টিত দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছিলেন। তাঁর অবদান কাতারের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।