মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চাঁদপুরের কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটার মহোৎসব: প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে এলাকাবসীর ক্ষোভ। প্রশাসনে আকস্মিক বড় ধাক্কা: একসাথে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো ৩২ কর্মকর্তাকে। রসিদ ছাড়া লাগেজ র‍্যাপিংয়ের সেবা প্রদান: ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতি শনাক্ত: এসডো’র গবেষণা। হাজীগঞ্জ বাজারে পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান: সাধুবাদ পেলেও যানজটের মূল কারণ নিয়ে প্রশ্ন নাগরিকদের। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ: শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের ফুলেল শুভেচ্ছা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: বিস্তারিত প্রতিবেদন। চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুল হকের নিরপেক্ষ অবস্থান ঘোষণায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চুর ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপকার: চিরবিদায় নিলেন কাতারের ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। চাঁদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা।

বেদেপল্লির কুঁড়েঘরে এক নারীর রাজকীয় আস্তানা

অনলাইন ডেস্ক । / ১২৪ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদেপল্লিতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘর, বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর মনে হয়; কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত বেদে নামধারী এক মাদককারবারির রাজকীয় জীবনযাপন।

সেখানে স্থাপন করা হয়েছে এয়ারকুলার (এসি) ও বিলাসবহুল আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবার পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এক সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে এবং প্রশ্রয়ে তিনি সেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন ওই নারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সাবেক এক মেম্বার জানান, মাদকের সঙ্গে সঙ্গে এখানে জমজমাট নারী ব্যবসাও। এলাকার বাহিরে থেকে যেমন বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা এমনকি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকেও খদ্দেররা আসে এ আস্তানায়।

এলাকার বয়োবৃদ্ধ আলী আহমদ (৬৫) বলেন, বাবা আমরা কলির কালে বসবাস করছি। এ মধুকুঞ্জ এলাকার উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের ধ্বংস করে ফেলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, বেড়া যদি খেত খায় তাহলে রক্ষা করবে কে? থানা পুলিশ নিয়মিত মাসিক টাকা নেয় এই মাদক রানীর কাছ থেকে। এলাকার পক্ষ থেকে একবার পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করায় শাসক দলের ক্যাডারদের হাতে কয়েকজন এলাকাবাসীকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল।

সরেজমিন দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদেপল্লি থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিকে হানিফ বলেন, একজন মাদককারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারো উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি ববিতা আক্তার সুমাইয়া। পরে মাদকসেবীর ফোন থেকে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘সাংবাদিক? কি লাগবো? টাকা লাগলে বা ‘ছেমরি’ লাগলে কন পৌঁছে যাবে; মাগার তেড়িবেড়ি করলে নারী নির্যাতন ও মাদক মামলায় ফাঁসাই দিমু হালায়। থানা এবং কোর্টে দুহানেই  মামলা রেডি থাকে সব সময়। আর সাবধান কইরা দিতাছি আমার বিরুদ্ধে বা আমার আশপাশে লাগার চেষ্টা করিস না, তাহলে খবর আছে।’

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদককারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। সে খুব বেপরোয়া। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা